বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

ক্রিসমাস_শাহজাহান

 #ক্রিসমাস


“জানিস পাপ্পু আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কাল রাতে সান্তা দাদু আমাকে কত্ত গিফট দিয়ে গেছে। একটা বড়ো কেক আর ইয়া বড়ো একটা গাড়ি!


তোকে কিচ্ছু দেয়নি?”


“কই না তো ! আমাকে  কিচ্ছু দেয়নি তো!” মনমরা হয়ে উত্তর দেয় পাপ্পু।


কুট্টুস পাপ্পুর দিকে তাকিয়ে কি চিন্তা করে নিয়ে বলে, “আচ্ছা দেখিস পরের বছর অবশ্যই আসবে সান্তাদাদু। তোকেও গিফট দিয়ে যাবে। আমি প্রে করবো”


পাপ্পু আর কুট্টুস দুই বন্ধু। এক পাড়ায় থাকে । দুজনেই ক্লাস ফাইভে পড়ে। একই ক্লাস হলেও স্কুলটা আলাদা।


কুট্টুসদের অবস্থা ভালো। নামী স্কুলে পড়ে। পাপ্পুরা খুব গরীব।কিন্তু ওদের বন্ধুত্বটা সমান্তরাল।


*******

আজ পঁচিশে ডিসেম্বর।ছুটির দিন। দুপুরে মা বাবার সঙ্গে একসাথে লাঞ্চ করছে কুট্টুস। খেতে খেতে বাবাকে হঠাৎই  প্রশ্ন করে “আচ্ছা বাবাই, সান্তা কাল আমাদের বাড়িতে এলো,কিন্তু পাপ্পুর বাড়িতে কেন এলো না? আমাকে তো গিফট দিয়ে গেল। ও তো আমাদের পাশেই থাকে ওকে দিয়ে গেল না কেন সান্তাদাদু?”


কুট্টুস এর বাবা চুপ করে যায় কিছুক্ষণ। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে মুচকি হেসে বলে “কেন দেবে না! তাইতো! বাবু,আমার মনে হয় কাল তোর সান্তাদাদুর গিফট শেষ হয়ে গিয়েছিলো। হয়তো ভালো গিফট ছিলো না। আজ নিশ্চয় পাপ্পুকে দিয়ে যাবে দেখিস।


কুট্টুস শান্ত হয়। খাবারের দিকে মন দেয় ভরসা পেয়ে।


*****************


পরের দিন সকালে  বাড়ির বাইরে কুট্টুসকে দেখে পাপ্পু ছুট্টে এসে তাকে ঘরে নিয়ে যায়।আনন্দে লাফাতে লাফাতে বলে “এই দেখ, এই দেখ, আজ সকালে গেটের সামনে সান্তা দাদু কত্ত চকোলেট, কেক আর খেলনা রেখে গেছে আমার জন্য!”


কুট্টুসেরও খুব আনন্দ হয়। পাপ্পুকে বলে, “হ্যাঁ রে, বাবাইও বলছিলো, কাল হয়তো সান্তাদাদুর গিফট শেষ হয়ে গেছে। আবার ঠিক দিয়ে যাবে”


পাপ্পুর বাবা মায়ের বুঝতে অসুবিধা হয় না, আসলে সান্তাটা কে!”

merry Christmas ❤️

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

চক্রব্যূহ_শাহজাহান

নিমেষে মহাপ্রলয় মেঘকে  টুটে,

জয় করবো এ দূর্ভেদ্য  কুহেলিকা।

তিমির-রাত্রির মেঘ প্রহরীদের লুটে,

রুদ্ধ করবো চক্রব্যূহের অহমিকা।


উন্মুখ দ্বারে লীন হবে প্রশ্রয়;

মুমুক্ষায় ব্যাকুল হবে মৃত্যুর বিভীষিকা।

কাটিয়ে দেব নিমেষে সকল সংশয়,

অচিরেই লুব্ধ হবে প্রাচীন অববাহিকা । 


দুয়ারে দাঁড়িয়ে করবো হনন,

চোখে চোখ রেখে দেখাবো স্পর্ধা। 

ভাঙবো রাজকোষের মিথ্যে প্রহসন,

দিগবিদিক প্রহতে গাড়বো এ ধ্বজা। 



দুর্ভিক্ষ_শাহজাহান

 জমকালো এক রাতের শেষে ভোরে,

ফিরে  আসে অলিখিত দ্বন্দ্ব।

অজ্ঞাত এক শিশু অগোচরে,

মাটি খুঁড়ে পায় খাবারের গন্ধ।


নদীর চোখ ব্যাকুল হয়ে তাকায়,

দু'হাত দিয়ে ছোঁয় না তার শরীর।

শিরাগুলো রক্ত খুঁজে বেড়ায়,

জনহীনা স্রোতগুলো হয় বধির।


কায়ার গ্রাসে ঝাঁপায় ক্ষুদা-দানব,

অসময়ে রমজানেরা আসে।

বিরামহীন যুদ্ধ বেঁচে থাকার,

ক্ষুদার জ্বালায় নিঃস্ব হবে শেষে।


ভাঙা দেওয়াল, লুকায় আগাছারা,

বসন্তকে পায় না তারা  সুখে।

জীর্ণ দেশে রাজাই ক্ষত হারা,

শাপের রেখা শুধুই প্রজার মুখে।

ছবি ও লেখা - শাহজাহান🌿



বাংলা গল্প_তিস্তা কলমে-শাহজাহান 🌿

 


















“না, কোনো প্রয়োজন নেই এই মেয়ে কে জন্ম দেওয়ার।”

হ্যাঁ  ঠিক বলেছিস বাবা, যখন জানতেই পেরেছি বৌমার গর্ভের সন্তান মেয়ে। তখন যা করার এখনই করে ফেলা দরকার!”

হ্যাঁ  মা, ডাক্তারের সাথে আমি কথা বলে নেবো। যাতে খুব তাড়াতাড়ি অ্যাবোরসন করে নেওয়া যায়।

“হ্যাঁ,  সেই ভালো। তাই কর বাবা।”
আর বৌমা তোমাকেও বলি। তা আমার বংশের প্রদীপের জন্য একটা ছেলে চেয়েছিলাম তাও দিতে পারলে না ! তোমার সে ক্ষমতাও হলো না।”

এতক্ষণ চুপ করে ছিলো তিস্তা,  আর নিজের রাগকে সামলে রাখতে পারলো না।

সোফা থেকে উঠে শাশুড়ীর উদ্দেশ্যে বললো -“সেটা আপনার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন মা। ও ‘X’ এর জায়গায়  ‘Y’ দিতে পারলো না কেন? অকর্মণ্যতা কার? কে আসল কারণ”

তাদের কিছু বলার আগেই তিস্তা বেড়িয়ে এলো বাড়ি থেকে। তাঁদের মতো অজ্ঞ মানুষকে আজ যোগ্য জবাব দিতে পেরেছে সে।

*************

ছয় মাস পরে..….....
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে তিস্তা। একজন নার্স সদ্য জন্ম দেওয়া তার ফুটফুটে সন্তানকে পাশে শুইয়ে দিয়ে গেলেন।

তিস্তার চোখে জল চলে এলো। আর একটু ভুলের জন্য এরকম একটা নিস্পাপ শিশুকে চিরদিনের জন্য শেষ করে দিত। সেদিন সঠিক সময়ে যদি ঠিক সিদ্ধান্ত না নিত তাহলে আজ মিলির জন্ম দিতে পারতো না।
না,  আর নয়। সব শেষ করে দিয়ে আগেই চলে এসেছে তিস্তা। এখন তার একমাত্র স্বপ্ন তার মিলিকে  অনেক বড়ো করতে হবে। দেখাতে হবে মায়েরা সব পারে৷

*************
এই ভাবে অসংখ্য মিলিকে বাঁচানোর দায়িত্ব  শুধু তিস্তার নয়, আমাদের সকলের।

মায়ের ভালোবাসা কোনোদিন মিথ্যে হয় না, হয় না কোনো ভেদাভেদ।

সমাজের কিছু নীচ, বর্বর মানুষের ভুল চিন্তা ভাবনার জন্য অনেক মিলি অচিরেই পৃথিবীর আলো দেখার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পুরুষ এবং নারী দুজনেই একে অপরের সম্পূরক।  পুরুষ সৃষ্টির জন্যও নারীকেই প্রয়োজন, সেটা ভুললে চলবে না। তারা একাধারে যেমন  স্ত্রী, কন্যা আবার আমাদের মা।

আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে সেই  সব মায়েদের জানাই প্রণাম, যাঁদের জন্য আমরা পৃথিবীর আলো দেখতে পেরেছি।

শুভ আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

প্রিয় ঋতু

 মনের ‘দহনে’ ‘চিত্রাঙ্গদার’ কাটছে না ‘শুভ মহরৎ’,

আরেকটি প্রেমের গল্প’ লেখে ‘উৎসবের’ ভেজা ‘রেনকোট’।

‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ শুধু ‘দোসর’ ‘চোখের বালি’,

‘জীবন স্মৃতির' গল্প লেখে  ‘তিতলির’ বাড়িওয়ালি’।

‘নৌকাডুবির’ কারণ বাত্যা ‘আবহমানের’ কবলে,

‘হীরের আংটি’ খোয়া গেছে অচিন ‘অন্দরমহলে’।

॥ঋতুপর্ণ ঘোষের শুভ জন্মদিনে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ ও প্রণাম॥
- শাহজাহান 🌿

রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

#শিল্পী

হৃদয় যখন কষ্ট পায়,
কলম তখন প্রেম ঢালে।
শত আঘাত লুকায় যারা,
তাদেরকেই তো শিল্পী বলে!

চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়,
ক্যানভাসেতেও রঙ মাখে।
কোনো একদিন নিলাম দরে,
ভুলবে তার এই শিল্পীটাকে।

অনুভূতি ঘেরা আবরণে,
ভেদ করা দায়, বেজায় কঠিন।
ঝরা পাতায় প্রেম খুঁজে পায়,
শিল্পী তুমি এক চরিত্রহীন।
- শাহজাহান 🌿



Bangla Golpo || Jodi Jete Chao || Shahjahan

  বাসের জানলার ধারে বসে একমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে ঐশী। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে, আর তার ছোটো ছোটো ছাঁট এসে পড়ছে ওর চোখে-মুখে। সেই কারণে অ...